নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকার কন্ঠঃ
বিরল এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জান্নাত মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার পরিবার। অর্থাভাবে চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি ও তার স্বজনরা। জান্নাতের জীবন রক্ষায় সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
জান্নাত মিয়া ২০২০ সালে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে একমাত্র একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান। তবে সুখের সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। ২০২১ সালে হঠাৎ করেই তিনি এক বিরল রোগে আক্রান্ত হন। রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকলে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। অসুস্থতার বিষয়টি জানার পর স্ত্রী সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান, এরপর আর ফিরে আসেননি। এতে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন জান্নাত।
জান্নাতের বাবা একজন ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা চালক এবং মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালান। জান্নাত পরিবারের একমাত্র ছেলে ও প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি স্থানীয় একটি পোশাক তৈরি কারখানায় কাজ করতেন। তার আয়ের ওপরই নির্ভর করত বাবা-মা, সন্তানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারালে পরিবারে নেমে আসে চরম অভাব-অনটন।
পরিবারে জান্নাতের আরও দুই বোন রয়েছে। তারা সবাই বিবাহিত হওয়ায় নিজ নিজ সংসারের দায়িত্ব নিয়ে ভাইয়ের চিকিৎসার ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাবা-মায়ের সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী মানবিক উদ্যোগে নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে একাধিকবার জান্নাতের চিকিৎসা করান। এতে কিছুদিন তার অবস্থার উন্নতি হলেও আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতিটি ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে তাকে অন্তত তিনটি ইনজেকশন দিতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে তাতেও আশানুরূপ ফল না এলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, যা এই পরিবারের পক্ষে কল্পনাতীত।
জান্নাতের চাচা মফিজুল ইসলাম বলেন, অনেক টাকা খরচ করেও সে পুরোপুরি ভালো হচ্ছে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা সবাই মিলে সহযোগিতা করেছে। এখন আবারও অনেক টাকার প্রয়োজন। সবাই যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
জান্নাতের সহপাঠী বন্ধু আরমান জানান, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে স্থানীয় কলকারখানায় কাজ করতে হতো। এরপরও তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২১ সালে রোগ ধরা পড়ার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর সাময়িকভাবে কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ছেলের এই রোগের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন জান্নাতের পরিবার। অর্থের অভাবে নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসা করাতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার মা। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে জান্নাতের মা হুরেনা খাতুন বলেন, ছেলের এই সমস্যাটা পাঁচ বছর ধরে চলছে। টাকা-পয়সার অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আল্লাহর কাছে আর মানুষের কাছে ছেলের সুস্থতার জন্য দোয়া আর সাহায্য চাই।