তরুণ লেখিকা আতকিয়া ফাইরুজ রিসা’র চিঠি”প্রিয় তুমি”‘-

প্রিয় তুমি,

কেমন আছো?
চিঠিটা বেশ কয়েকবার লিখতে গিয়েও থেমে গিয়েছি।
আজকাল কোনো কাজই পুরোপুরি করতে পারিনা। মনে হয়, শেষ না হলেই বা কি? এমন সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে দেয়ার মানসিকতা কবে থেকে তৈরি হয়েছে জানিনা।
মাঝেমধ্যে মনে হয়, নিজেকে ইচ্ছা করেই পাল্টে ফেলেছি। আবার মনে হয়, একা একাই সব হচ্ছে। সবকিছু আমার ইচ্ছার বাহিরেই হয়ে যাচ্ছে।
আসলে, ঠিক জানিনা।
এমন জটিল কথা বলতেও ভালো লাগেনা আর।
খুব সাধারণভাবে বাঁচার ইচ্ছাটা জন্মেছে প্রবলভাবে। অর্থ সম্পদের জৌলুস, খ্যাতির মোহ কিছুই যেন আর টানছেনা আগের মতো।
মন বড় অদ্ভুত! কখন কি চেয়ে বসে, বোঝা মুশকিল।
মনের গোলাম আমরা।মন তার ইচ্ছামতো বদলায়, আমাদেরকেও কখনো সেভাবে বদলে যেতে হয়।
তবে, আমার কি মনে হয় জানো, আমাদের এই জীবনটা আসলে আমাদের ইচ্ছার চেয়ে দায়বদ্ধতার দ্বারা বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই দায়বদ্ধতার জন্য আমরা দূরত্ব মেনে নেই, মায়াকে প্রশ্রয় দেইনা আরো কত কি!
বলতে বলতে বেশি বলে ফেলছি। তোমার কি বিরক্ত লাগছে?
থাক, আর বলবোনা। এই কথাগুলোও জমে থাক। শেষ না হোক।
যদি সময়টাকেও এভাবে একটু আটকে রাখা যেতো। যদি শেষ না হতো!
জানো,সময় যতো পেরোচ্ছে ততো ভয় বাড়ছে। এতো ভয়! যেন কোথাও গিয়ে লুকিয়ে থাকি। কিন্তু লুকাতেও পারছিনা।
আমাকে একটা লুকানোর জায়গা বলতে পারো?
অনিশ্চয়তা, পরাজয়ের গ্লানি মনকে অনেক দুর্বল করে ফেলে।
আমার মনটাও খুব দুর্বল। এতো দুর্বল মন নিয়ে আমি ভাবতে পারিনা কোনো কিছু আর।
আচ্ছা, তুমি কি একটু সাহস দিতে পারো?
সাহসটা এখন আমার কাছে মরুভূমিতে প্রচণ্ড তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাওয়া কোনো বেদুইনের জন্য এক মশক পানির মতোই হয়ে গেছে।
এতো দীর্ঘ হয়ে গেছে জীবনটা, অথচ সময় দ্রুত ফুরাচ্ছে। কিভাবে বোঝাই যে তোমাকে!
নাকি না বললেও বুঝতে পারো!
আসলেই কি বুঝতে পারো, না ভান করো?
কোনটা?
ভালো থেকো।
.
ইতি
‘তোমার আমি’
.
Written by- আতকিয়া ফাইরুজ রিসা

শেয়ার করুন :

Leave a Reply